১৪৪ ধারা কী? কখন এবং কেন এটি প্রয়োগ করা হয়?

আপনি অবশ্যই ধারা -144 সম্পর্কে শুনেছেন।  সুতরাং আপনি কি জানেন যে এই ধারা 144 কী এবং কখন এবং কেন এটি  প্রয়োগ করা হয়। আমরা এই নিবন্ধে 144 ধারা সম্পর্কে বিস্তারিত জানব। তাহলে আসুন সময় নষ্ট না করে এই গুরুত্বপূর্ণ ধারা সম্পর্কে আমাদের জানা যাক, ধারা -144 কী, কখন এবং কেন এটি প্রয়োগ করা হয়? ১৪৪ ধারা কী?

বাংলাদেশে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সম্ভাবনা থাকলে সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ১৪৪ ধারা প্রয়োগ করা হয়। ধারা -144 কার্যকর হওয়ার পরে পুলিশ চার বা ততোধিক লোককে এক জায়গায় জমায়েত করতে নিষেধ করে।এটি লঙ্ঘনের জন্য পুলিশও ব্যবস্থা নেয়।

১৪৪ ধারা কী? কখন এবং কেন

যখন কোনও নির্দিষ্ট অঞ্চলে সুরক্ষা সম্পর্কিত কোনও বিপদ বা দাঙ্গার সম্ভাবনা থাকে, তখন ধারা -144 জারি করা হয় যাতে শান্তি বজায় রাখা যায় এবং জরুরি অবস্থা এড়ানো যায়। ১৪৪ ধারা হল বাংলাদেশের ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর একটি ধারা। ভারতীয় ফৌজদারী কার্যবিধি র ১৪৪ ধারার সাথে এক বা অনেক মিল বয়েছে। এই আইনের ক্ষমতাবলে কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কোন এলাকায় একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সভা-সমাবেশ করা, আগ্নেয়াস্ত্র বহনসহ যেকোন কাজ নিষিদ্ধ করতে পারেন। জরুরী অবস্থা বা সম্ভাব্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য এই আইনের প্রয়োগ করা হয়। ১৯৭৬ সালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠনের পর শুধু মহানগরী এলাকার জন্য এই বিধান জারি করে।আপনি যদি খেয়াল করেন, এই ধারা প্রায়শই শান্তি বজায় রাখতে ব্যবহৃত হয়। এটি হ’ল যদি কোনও জায়গায় দাঙ্গা হয়, বা অঞ্চলের পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকে তবে ১৪৪ ধারা জারি করা হয় ।অর্থাত্ 144 ধারাটি জরুরি অবস্থা থেকে কোনও অঞ্চল রক্ষার জন্য প্রয়োগ করা হয়।

১৪৪ ধারা কেন জারি হয়েছে?

উপরোক্ত তথ্য থেকে জানা যায় যে কেন ধারা -144 জারি হয়েছে। এর সহজ উত্তর হ’ল যে কোনও ধরণের বিপদ, দাঙ্গা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ধারা 144 জারি করা হয়।

উদাহরণস্বরূপ, করোনার ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য প্রতিবেশী দেশ ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে ১৪৪ ধারা চালু করা হয়েছে যাতে এক জায়গায় 3-4 জনের বেশি লোক জড়ো না হয়।

এটি কখন শুরু হয়েছিল?

১৮৯৮ সালে ব্রিটিশ শাসকদের দ্বারা চালুকৃত ১৪৪ ধারার বিধান বিভিন্ন সময়ে বিরোধী মত দমনে ব্যবহৃত হয় । আসলে, ব্রিটিশরা ভারতীয়দের কণ্ঠস্বর থামাতে এবং জাতীয়তাবাদী আন্দোলন চালানো থেকে বিরত রাখতে প্রায়শই এই ধারটি ব্যবহার করতো।

১৪৪ ধারা কে জারি করে ?

সরকারের আদেশ অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট অর্থাৎ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট একটি প্রজ্ঞাপন প্রেরণ করেন। এবং ধারা 144 পুরো এলাকায় প্রযোজ্য।

১৪৪ ধারা জারি করার পরে কী ঘটে?

যখনই এই ধারাটি প্রয়োগ করা হবে তখন চার বা ততোধিক লোক সেই জায়গায় জড়ো হতে পারে না। তা ছাড়া এই ধারা যে স্থানে রয়েছে সেই স্থানে অস্ত্র বিনিময় নিষিদ্ধ রয়েছে। কখনও কখনও ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ করতে হতে পারে। সরকারের উদ্দেশ্য হ’ল জনগণকে জমায়েত করা থেকে বিরত রাখা, অর্থাৎ যখনই লোকজন জড় হওয়ার কারণে সমস্যা হতে পারে তখনই এই ধারাটি কার্যকর করা হয়।

ধারা 144 কত দিন কার্যকর থাকে?

ধারা 144 সর্বাধিক 2 মাসের জন্য আরোপ করা যেতে পারে। তবে যদি কোনও বিশেষ ক্ষেত্রে দেশের সরকার মনে করে যে এর মেয়াদ বাড়ানোর দরকার আছে, তবে তা আরও বাড়ানো যেতে পারে।

আপনি ধারা 144 লঙ্ঘন করলে কী হবে?

যদি কোনও ব্যক্তি এই বিভাগটি লঙ্ঘন করে। অর্থাৎ লোকেরা যদি কোথাও অবৈধভাবে জমায়েত হয় তবে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে তাকে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া যেতে পারে।

বাংলাদেশে ধারা 144 কখন জারি হয়েছিল?

১৮৯৮ সালে ব্রিটিশ শাসকদের দ্বারা চালুকৃত ১৪৪ ধারার বিধান বিভিন্ন সময়ে বিরোধী মত দমনে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবীতে ছাত্রদের আন্দোলন দমন করতে ১৪৪ ধারা জারী করা হয় এবং এই ধারা ভঙ্গ করায় পুলিশ গুলি করে সালাম, বরকত, রফিক-সহ আরো অনেককে হত্যা করে। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান দমনে ১৪৪ ধারা প্রয়োগ করা হয় এবং এই ধারা ভঙ্গের কারণে শহীদ মোহাম্মদ শামসুজ্জোহা, শহীদ আসাদ-সহ অনেক প্রতিবাদী মানুষ নিহত হন। স্বাধীন বাংলাদেশেও বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের দমনে ১৪৪ ধারার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা অধিকার এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১৩ সালে বাংলাদেশে ৫৪ বার ১৪৪ ধারা জারী করা হয়েছে যার অধিকাংশই বিরোধী দলসমূহের সমাবেশকে নিষিদ্ধ করেছে।

ধারা 144 এবং কারফিউ একই?

না, ধারা -144 এবং কারফিউ একই জিনিস নয়। ১৪৪ ধারা অনুযায়ী যেখানে ৪-৫ জনেরও বেশি লোককে একত্রিত হওয়ার অনুমতি নেই, সেখানে কারফিউটি খুব খারাপ অবস্থায় জারি হয়েছে। কারফিউতে লোকদের বাড়ি ছেড়ে না যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। মার্কেট, স্কুল, কলেজ ইত্যাদি বন্ধ থাকে। এর বাইরেও যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়।

উপসংহার

সুতরাং বন্ধুরা, এই নিবন্ধে আমরা শিখলাম যে অনুচ্ছেদ -144 কী, কখন এবং কেন এটি আরোপ করা হয়। এর সাথে, আমরা আপনার বিভ্রান্তি দূর করতে ধারা 144 এবং কারফিউয়ের মধ্যে পার্থক্যটিও ব্যাখ্যা করেছি। আশা করি এই ধারা সম্পর্কিত আপনার সমস্ত প্রশ্নের উত্তর এই পোস্টে পাওয়া যাবে। আপনার বন্ধুদের সাথে এই তথ্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন যাতে তারাও এটি সম্পর্কে জানতে পারে।

Jahid Alvi

আমি এই ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা একজন ক্ষুদ্র ব্লগার এবং ওয়েব ডিজাইনার। এখানে আমি নিয়মিত আমার পাঠকদের জন্য দরকারী এবং সহায়ক তথ্য দিয়ে থাকি। যাতে আপনার লাইফের যেকোন সমস্যার উন্নতি করার জন্য আমি কোনও ভাবে সহায়তা করতে পারি।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *